মার্জিন কলে ক্ষতি

cryptofutures.trading থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

মার্জিন কলে ক্ষতি

ক্রিপ্টোকারেন্সি ফিউচার্স ট্রেডিং একটি জটিল এবং উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ ক্ষেত্র। এখানে, মার্জিন কল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা বিনিয়োগকারীদের ভালোভাবে বুঝতে হয়। মার্জিন কল হলো ব্রোকারের পক্ষ থেকে ট্রেডারকে তাদের অ্যাকাউন্টে আরও তহবিল যোগ করার বা তাদের অবস্থান বন্ধ করার অনুরোধ। এই অনুরোধটি আসে যখন ট্রেডারের অ্যাকাউন্টের ইক্যুইটি একটি নির্দিষ্ট স্তরের নিচে নেমে যায়। মার্জিন কল উপেক্ষা করলে ব্রোকার ট্রেডারের অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দিতে পারে, যার ফলে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হতে পারে। এই নিবন্ধে, মার্জিন কল কীভাবে কাজ করে, এর কারণ, কীভাবে এটি এড়ানো যায় এবং মার্জিন কলে ক্ষতির প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

মার্জিন কল কী?

মার্জিন ট্রেডিং-এর ক্ষেত্রে, বিনিয়োগকারীরা তাদের নিজস্ব মূলধনের চেয়ে বেশি পরিমাণ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি করার জন্য, তারা ব্রোকারের কাছ থেকে ঋণ নেয়, যাকে মার্জিন বলা হয়। এই মার্জিন ব্রোকারের কাছে জামানত হিসেবে থাকে। যখন কোনো ট্রেডারের পজিশন লোকসানের সম্মুখীন হয়, তখন তার অ্যাকাউন্টের ইক্যুইটি হ্রাস পায়। যদি ইক্যুইটি মার্জিন রিকোয়ারমেন্টের নিচে নেমে যায়, তখন ব্রোকার একটি মার্জিন কল জারি করে।

মার্জিন কল কেন হয়?

মার্জিন কল হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:

  • অপর্যাপ্ত তহবিল: যখন ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত তহবিল থাকে না, তখন মার্জিন কল হতে পারে।
  • বাজারের অস্থিরতা: অপ্রত্যাশিত বাজার মুভমেন্টের কারণে দ্রুত লোকসান হলে মার্জিন কল হতে পারে।
  • উচ্চ লিভারেজ: উচ্চ লিভারেজ ব্যবহার করলে লাভের সম্ভাবনা বাড়ে, তবে লোকসানের ঝুঁকিও অনেক বেড়ে যায়।
  • খারাপ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা: যথাযথ স্টপ-লস অর্ডার ব্যবহার না করলে বা পোর্টফোলিও ডাইভারসিফাই না করলে মার্জিন কল হতে পারে।

মার্জিন কলের উদাহরণ

ধরুন, একজন ট্রেডার ১:১০ লিভারেজের সাথে ১০,০০০ টাকার ক্রিপ্টোকারেন্সি কিনেছে। এর মানে হলো, তিনি ১০,০০০ টাকার ট্রেড করার জন্য ১,০০০ টাকা জমা দিয়েছেন। যদি ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম ১০% কমে যায়, তাহলে তার লোকসান হবে ১,০০০ টাকা। এই ক্ষেত্রে, তার অ্যাকাউন্টের ইক্যুইটি কমে ৯,০০০ টাকায় দাঁড়াবে। যদি ব্রোকারের মার্জিন রিকোয়ারমেন্ট ৫০% হয়, তবে ট্রেডারকে কমপক্ষে ৫,০০০ টাকার ইক্যুইটি বজায় রাখতে হবে। যেহেতু তার ইক্যুইটি ৯,০০০ টাকা, তাই সে এখনও মার্জিন কলের সম্মুখীন হবে না।

কিন্তু, যদি ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম ২০% কমে যায়, তাহলে তার লোকসান হবে ২,০০০ টাকা। ফলে, তার অ্যাকাউন্টের ইক্যুইটি কমে ৮,০০০ টাকায় দাঁড়াবে। এখন, তার ইক্যুইটি মার্জিন রিকোয়ারমেন্টের (৫০%) নিচে নেমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে, ব্রোকার একটি মার্জিন কল জারি করবে এবং ট্রেডারকে অতিরিক্ত তহবিল জমা দিতে বা পজিশন বন্ধ করতে বলবে।

মার্জিন কলে ক্ষতির প্রভাব

মার্জিন কল পূরণ করতে ব্যর্থ হলে, ব্রোকার ট্রেডারের পজিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দিতে পারে। এর ফলে নিম্নলিখিত ক্ষতিগুলো হতে পারে:

  • আর্থিক ক্ষতি: পজিশন বন্ধ করার সময় ট্রেডারকে লোকসান গুনতে হবে।
  • সুদ এবং ফি: মার্জিন ঋণের উপর সুদ এবং অন্যান্য ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
  • ক্রেডিট স্কোর হ্রাস: মার্জিন কল পূরণ করতে ব্যর্থ হলে ট্রেডারের ক্রেডিট স্কোর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  • মানসিক চাপ: মার্জিন কল এবং এর ফলস্বরূপ সৃষ্ট ক্ষতি বিনিয়োগকারীদের জন্য মানসিক চাপের কারণ হতে পারে।

মার্জিন কল এড়ানোর উপায়

মার্জিন কল এড়ানোর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • যথাযথ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা: ট্রেডিংয়ে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব অপরিহার্য। স্টপ-লস অর্ডার ব্যবহার করে সম্ভাব্য লোকসান সীমিত করুন।
  • লিভারেজ নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত লিভারেজ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। কম লিভারেজ ব্যবহার করে ট্রেড করলে মার্জিন কলের ঝুঁকি কমে যায়।
  • পোর্টফোলিও ডাইভারসিফাই করুন: আপনার বিনিয়োগ বিভিন্ন সম্পদে ছড়িয়ে দিন। এতে কোনো একটি সম্পদের দাম কমলেও আপনার সামগ্রিক পোর্টফোলিওতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না।
  • মার্জিন রিকোয়ারমেন্ট সম্পর্কে জানুন: ব্রোকারের মার্জিন রিকোয়ারমেন্ট সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে আপনার ট্রেডিং পরিকল্পনা করুন।
  • নিয়মিত অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ: আপনার ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন এবং ইক্যুইটি লেভেল ট্র্যাক করুন।
  • মার্জিন কল সম্পর্কে অবগত থাকুন: মার্জিন কল কিভাবে কাজ করে এবং এর পরিণতি কী হতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান রাখা জরুরি।

ক্রিপ্টো ফিউচার্স ট্রেডিংয়ের ঝুঁকি

ক্রিপ্টো ফিউচার্স ট্রেডিং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে কিছু অতিরিক্ত ঝুঁকি উল্লেখ করা হলো:

  • বাজারের অস্থিরতা: ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার অত্যন্ত অস্থির। দাম দ্রুত ওঠানামা করতে পারে, যা মার্জিন কল এবং ক্ষতির কারণ হতে পারে।
  • নিয়ন্ত্রণের অভাব: ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারের উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ কম, তাই এখানে জালিয়াতি এবং ম্যানিপুলেশনের ঝুঁকি বেশি।
  • প্রযুক্তিগত ঝুঁকি: ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম এবং এক্সচেঞ্জগুলো হ্যাকিং এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমস্যার শিকার হতে পারে।
  • লিকুইডিটি ঝুঁকি: কিছু ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে লিকুইডিটির অভাব থাকতে পারে, যার ফলে বড় অঙ্কের ট্রেড করা কঠিন হতে পারে।

ঝুঁকি কমানোর কৌশল

ক্রিপ্টো ফিউচার্স ট্রেডিংয়ের ঝুঁকি কমাতে নিম্নলিখিত কৌশলগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে:

  • স্টপ-লস অর্ডার ব্যবহার করুন: স্টপ-লস অর্ডার ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট মূল্যে পৌঁছালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার পজিশন বন্ধ হয়ে যাবে, যা লোকসান কমাতে সাহায্য করবে। স্টপ লস অর্ডার
  • টেক প্রফিট অর্ডার ব্যবহার করুন: টেক প্রফিট অর্ডার ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট মূল্যে পৌঁছালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার পজিশন বন্ধ হয়ে যাবে, যা লাভ নিশ্চিত করবে। টেক প্রফিট অর্ডার
  • হেজিং: হেজিংয়ের মাধ্যমে আপনি আপনার বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে পারেন। হেজিং
  • ডলার- cost এভারেজিং (DCA): DCA একটি কৌশল যেখানে আপনি নির্দিষ্ট সময় পর পর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেন, যা বাজারের অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করে। ডলার- কস্ট এভারেজিং
  • ফান্ডামেন্টাল এবং টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ: বিনিয়োগের আগে ফান্ডামেন্টাল এবং টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ করুন। ফান্ডামেন্টাল বিশ্লেষণটেকনিক্যাল বিশ্লেষণ
  • সংবাদ এবং বাজারের আপডেট: ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার এবং বিশ্বের অর্থনীতির খবর সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট থাকুন। বাজারের বিশ্লেষণ

ফিউচার্স ট্রেডিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ

  • লিভারেজ (Leverage): লিভারেজ হলো ঋণ নিয়ে ট্রেড করার ক্ষমতা। এটি আপনার লাভ এবং লোকসান উভয়ই বাড়িয়ে দিতে পারে। লিভারেজ
  • মার্জিন (Margin): মার্জিন হলো ব্রোকারের কাছে জমা রাখা জামানত। মার্জিন
  • পিপস (Pips): পিপস হলো মুদ্রাজুড়ির ক্ষেত্রে দামের ক্ষুদ্রতম পরিবর্তন। পিপস
  • স্প্রেড (Spread): স্প্রেড হলো কেনা এবং বেচার দামের মধ্যে পার্থক্য। স্প্রেড
  • ভলিউম (Volume): ভলিউম হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে কেনা বা বেচার পরিমাণ। ট্রেডিং ভলিউম
  • লিকুইডিটি (Liquidity): লিকুইডিটি হলো বাজারে কত সহজে কোনো সম্পদ কেনা বা বেচা যায় তার পরিমাপ। লিকুইডিটি
  • অর্ডার টাইপ (Order Type): বিভিন্ন ধরনের অর্ডার টাইপ রয়েছে, যেমন মার্কেট অর্ডার, লিমিট অর্ডার, স্টপ অর্ডার ইত্যাদি। অর্ডার টাইপ
  • চার্ট প্যাটার্ন (Chart Pattern): চার্ট প্যাটার্নগুলো দামের গতিবিধি বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করে। চার্ট প্যাটার্ন
  • ইন্ডিকেটর (Indicator): টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটরগুলো ট্রেডিং সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর
  • ট্রেন্ড লাইন (Trend Line): ট্রেন্ড লাইনগুলো বাজারের দিকনির্দেশনা বুঝতে সাহায্য করে। ট্রেন্ড লাইন
  • সাপোর্ট এবং রেসিস্টেন্স (Support and Resistance): সাপোর্ট এবং রেসিস্টেন্স লেভেলগুলো দামের গতিবিধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাপোর্ট এবং রেসিস্টেন্স
  • মোভিং এভারেজ (Moving Average): মোভিং এভারেজ হলো একটি জনপ্রিয় টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটর। মোভিং এভারেজ
  • রিলেটিভ স্ট্রেন্থ ইন্ডেক্স (RSI): RSI হলো একটি মোমেন্টাম ইন্ডিকেটর। রিলেটিভ স্ট্রেন্থ ইন্ডেক্স
  • MACD: MACD হলো একটি ট্রেন্ড-ফলোয়িং মোমেন্টাম ইন্ডিকেটর। MACD
  • ফিবোনাচ্চি রিট্রেসমেন্ট (Fibonacci Retracement): ফিবোনাচ্চি রিট্রেসমেন্ট হলো একটি জনপ্রিয় টেকনিক্যাল টুল। ফিবোনাচ্চি রিট্রেসমেন্ট

উপসংহার

মার্জিন কল একটি জটিল বিষয়, যা ক্রিপ্টো ফিউচার্স ট্রেডারদের ভালোভাবে বুঝতে হবে। যথাযথ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, লিভারেজ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মার্জিন কল এড়ানো সম্ভব। ক্রিপ্টো ফিউচার্স ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগ করার আগে বাজারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


সুপারিশকৃত ফিউচার্স ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম

প্ল্যাটফর্ম ফিউচার্স বৈশিষ্ট্য নিবন্ধন
Binance Futures 125x পর্যন্ত লিভারেজ, USDⓈ-M চুক্তি এখনই নিবন্ধন করুন
Bybit Futures চিরস্থায়ী বিপরীত চুক্তি ট্রেডিং শুরু করুন
BingX Futures কপি ট্রেডিং BingX এ যোগদান করুন
Bitget Futures USDT দ্বারা সুরক্ষিত চুক্তি অ্যাকাউন্ট খুলুন
BitMEX ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম, 100x পর্যন্ত লিভারেজ BitMEX

আমাদের কমিউনিটির সাথে যোগ দিন

@strategybin টেলিগ্রাম চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন আরও তথ্যের জন্য। সেরা লাভজনক প্ল্যাটফর্ম – এখনই নিবন্ধন করুন

আমাদের কমিউনিটিতে অংশ নিন

@cryptofuturestrading টেলিগ্রাম চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন বিশ্লেষণ, বিনামূল্যে সংকেত এবং আরও অনেক কিছু পেতে!